ইউটিউব ইনকাম ২০২০: ইউটিউব থেকে আয়

ইউটিউব ইনকাম ২০২০: ইউটিউব থেকে আয় করার উপায় আছে অনেকগুলো। পর্যায়ক্রমে উপায়গুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হবে। ইউটিউব থেকে আয় করার উপায় গুলো হলো নিম্নরুপ।

ইউটিউব ইনকাম ২০২০:

ইউটিউব ইনকাম ২০২০: ইউটিউব থেকে আয় করার উপায় :-

১. বিজ্ঞাপন প্রচার করে ইউটিউব থেকে আয়

২. এফলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয়

৩. নিজের পন্য বিক্রির মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয়

৪. ডোনেশন এর মাধ্যমে অনলাইনে আয়

৫. স্পন্সরশীপ এর মাধ্যমে অনলাইনে আয়

ইউটিউব হলো বর্তমান ইন্টারনেট জগতে সবচেয়ে জনপ্রিয় গুগলের মালিকানাধীন ভিডিও শেয়ারিং সাইট।

গুগলের মালিকানাধীন হলেও মূলত এর ভিডিও কনটেন্ট গুলো সাধারন ইউজার দের আপলোড করা।

বর্তমানে ইউটিউবে কি পরিমান আর কত ক্যাটাগরির ভিডিও আছে এটা আন্দাজ করাও মুশকিল। যেখানে প্রতি মিনিটে ৩০০ মিনিট ভিডিও আপলোড হতে থাকে।

যেহেতু ইউটিউব চলে ইউজারদের ভিডিও এর মাধ্যমে। সেহেতু এখানে ইউজারদের টাকা আয়ের পথ খোলা রয়েছে।

যে কেউ নিজের একটা চ্যানেল (কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হয়, জানতে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে হয় কিভাবে নামক পোস্ট টি পড়ুুুন) খুলে সেখানে ক্যাটাগরি ভিত্তিক ভিডিও আপলোড করে পরোক্ষ ভাবে অনলাইনে আয় করতে পারে।

কোন কোন উপায়ে ইউটিউব ইনকাম ২০২০: ইউটিউব এর মাধ্যমে অনলাইনে আয় করা যায় তা নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা করা হবে।

ইউটিউব ইনকাম ২০২০:

১. বিজ্ঞাপন প্রচার করে ইউটিউব ইনকাম ২০২০:

ইউটিউবে এটিই সবচেয়ে সহজ উপায় টাকা আয় করার। একটা চ্যানেল খুললেন। সেখানে ভিডিও আপলোড করলেন। ভিডিও এর ভিউ যত বাড়বে, চ্যানেলের জনপ্রিয়তা ততই বাড়বে।

এই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে ভিডিও এর মধ্যে তৃতীয় পক্ষের বিজ্ঞাপন প্রচার করে টাকা আয় করা যাবে। ভিডিও এর ভিউ যত বাড়বে, আপনার অনলাইনে আয় তত বাড়বে। 

তবে, কথাগুলো যত সহজে বললাম, প্রক্রিয়াটা যত সহজ নয়।

চ্যানেল খুললাম, একটার পর একটা ভিডিও আপলোড দিলাম। টাকা আসতে শুরু করলো বিষয় টা এমন নয়।

কারন, ভিডিও গুলো হতে হবে কিছু নির্দিষ্ট বিষয় সম্বলিত এবং অবশ্যই নিজের তৈরি করা।

একটা ক্যাটাগরি বাছাই করতে হবে। সেই অনুযায়ী ভিডিও তৈরি করে সেটা চ্যানেলে আপলোড করতে হবে।

এভাবেই একটা পর্যায়ে চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার বা ভিউ নিয়ে আপনার চিন্তা করতে হবে না।

তবে, এখানে ক্যাটাগরির একটা ভুমিকা অবশ্যই আছে। এমন ক্যাটাগরি বেছে নিতে হবে, যেটার সার্চ ভলিউম অনেক বেশী।

অর্থাৎ মানুষ যে বিষয় গুলো অনলাইনে বেশী বেশী খোজে সেগুলোর একটি কে বাছাই করে এগুতে হবে।

এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো। যে বিষয় নিয়ে ভিডিও বানাতে চান, সেই বিষয়ে অবশ্যই পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে। অন্তঃসারশূন্য কনটেন্ট কোন কাজে লাগবে না। 

এখন আপনার চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচারের প্রক্রিয়া শুরুর জন্য কিছু প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।

বিজ্ঞাপন প্রচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য আপনার চ্যানেলের নূন্যতম ১০০০ সাবস্ক্রাইবার হতে হবে।

আপলোড করা ভিডিও গুলো নূন্যতম ৪০০০ ঘন্টা ভিউ থাকতে হবে।

তবে আপনার চ্যানেল মনিটাডাইজ এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এরপর কর্তৃপক্ষের রিভিউ শেষে আপনার আবেদন এপ্রুভ হলেই আপনার অনলাইনে আয় এর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সর্বনিম্ন ১০০ ডলার জমা হলেই আপনি সেটা ব্যাংক ট্রান্সফার করে নিতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন প্রচারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, একটা ভিডিও যদি জনপ্রিয় হয়, ভিউ বাড়ার সাথে সাথে সেখান থেকে বহুদিন যাবত আপনার আয় আসতেই থাকবে।

এজন্যেই সঠিক ভিডিও বানাতে পারলে এটাই হতে পারে যে কারো জন্য সবচেয়ে সহজ উপায়ে টাকা আয়ের সহজ উপায়। 

২. এফলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয় :-

এফলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে ইউটিউব থেকে টাকা আয় করার সুযোগ রয়েছে। আমাজনসহ আরোও অনেক বড় বড় কোম্পানী এই সুযোগ দিয়ে থাকে। 

এই প্রক্রিয়ায় আপনার ভিডিও তে চুক্তিবদ্ধ কোম্পানির পন্যের লিংক শেয়ার করতে হবে, ওই লিংক থেকে যখন কেউ পন্য কিনবে তখন সেই পন্য বিক্রি থেকে আয় করা অর্থের একটা অংশ আপনি পাবেন।

৩. নিজের পন্য বিক্রির মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয় :-

ধরুন, আপনার চ্যানেলটি খুবই জনপ্রিয় হয়ে গেল। আপনার ফ্যান, ফলোয়ার বেড়ে গেল।

তখন আপনি আপনার চ্যানেলের লগো ব্যবহার করে টি শার্ট, মগ, চাবির রিং ইত্যাদি তৈরি করে বিক্রি শুরু করলেন।

এই পদ্ধতি ব্যবহার করেও অনেক টাকা আয় করা সম্ভব।

৪. ডোনেশন এর মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয়:-

অনেক সময় দেখা যায়, একটি চ্যানেল অনেক জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও খুব একটা আয় করতে পারছে না।

অপরদিকে চ্যানেলের ফ্যান, ফলোয়ার রা চাচ্ছে যে, চ্যানেলটি চালু থাক।

সেক্ষেত্রে তারা ব্যক্তিগত ভাবে প্যাট্রেয়ন পদ্ধতির মাধ্যমে ডোনেশন করে আপনার চ্যানেল চালু রাখতে সহায়তা করতে পারে। 

৫. স্পন্সরশীপ এর মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয় :-

একটি চ্যানেল যখন অনেক জনপ্রিয় হয়ে যায়, তখন বিভিন্ন কোম্পানি তাদের কোম্পানির ব্যাপক প্রচারের জন্য সেইসব জনপ্রিয় চ্যানেল গুলো ব্যবহার করতে মুখিয়ে থাকে।

পদ্ধতিটি খুবই সহজ, আপনি টাকার বিনিময়ে কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হলেন। 

আপনি আপনার ভিডিওতে তাদের কোম্পানির নাম বিভিন্নভাবে প্রচার করবেন বা তাদের প্রোডাক্ট নিয়ে রিভিউ জাতীয় ভিডিও তৈরি করলেন।

এতে কোম্পানির বহুল প্রচার হলো আর বিনিময়ে আপনি পেলেন অর্থ।

ইউটিউব এর মাধ্যমে অনলাইনে আয় এর পরিমান কত হতে পারে তা অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে। অনেকে বাচ্চাদের খেলনা দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা অনলাইনে ইনকাম করছে। 

নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, একটি ভিডিও এর ১ হাজার ভিউ এর জন্য আপনি ৩ থেকে ৭ ডলার অবধি পেতে পারেন।

আয়ের উদাহরন দিতে গেলে বিউটি রিলেটেড ইউটিউবার জেফরি স্টার এর বর্তমান সাবস্ক্রাইবার হলো ১২.৭ মিলিয়ন। যা থেকে তার আয়ের পরিমান ৫ মিলিয়ন ডলার। জ্যাকলিন হিল এর বর্তমান সাবস্ক্রাইবার হলো ৫.৮ মিলিয়ন। আর তার চ্যানেল থেকে আয়ের পরিমাণ হলো ১.৫ মিলিয়ন ডলার।

অপরদিকে ভিডিও গেম নিয়ে ইউটিউব ভিডিও তৈরি করা ফেলিক্স কেজেলবার্গ ৮৪ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার নিয়ে আয় করছেন ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অনলাইন ইনকাম সম্পর্কে আরোও জানতে এবিষয়ে অনলাইনে ইনকাম ২০২০: অনলাইন থেকে আয়ের সহজ উপায় পোষ্ট টি পড়ে দেখুন।

9 thoughts on “ইউটিউব ইনকাম ২০২০: ইউটিউব থেকে আয়

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।