গুগল সেফ সার্চ কি,পর্ণ গ্রাফী ও অশ্লীলতা মুক্ত ইন্টারনেট

অনলাইনে শিশুদের উপস্থিতি অনেকাংশে বেড়েছে।কিন্তু অনলাইনে অবাধ নগ্নতা বা পর্ণ গ্রাফী থেকে তারা কতটা নিরাপদ?একজন সচেতন অভিভাবক হিসাবে শুধুমাত্র একটি অপশান সক্রিয় করে অর্থাৎ গুগল সেফ সার্চ ব্যবহার করে পর্ণগ্রাফী ও অশ্লীলতা মুক্ত ইন্টারনেট সবার জন্য নিশ্চিত করুন।জেনে নিন গুগল সেফ সার্চ কি?

পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতি বহুলাংশে অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়েছে।এক্ষেত্রে শিক্ষা ব্যবস্থাও বিকল্প হিসাবে অনলাইন প্লাটফর্মকেই বেছে নিয়েছে।

অনলাইনে কোমলমতি শিশুরা পর্ণ গ্রাফীর কুৎসিত শিকারে পরিনত হচ্ছে।শুধু শিশুরাই নয় অনেকেই পর্ণ গ্রাফীর চরম আসক্তির থাবায় বিপর্যস্ত হচ্ছে।

বৈশ্বিক মহামারী বিশ্ববাসীকে নাকাল করে তুলেছে।মানুষকে ঘরে থাকতে বাধ্য করেছে।এক্ষেত্রে অবশ্য অনলাইনকে মানুষ বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করছে।

যার ফলে কারনে অকারনে ইন্টারনেটের ব্যবহার অনেকাংশে বেড়ে গেছে।সেই সাথে বেড়েছে ওয়েব সার্চের ব্যবহার।

আমরা জানি যে অনলাইনে পর্ণ গ্রাফী বা নগ্নতা কিভাবে বিস্তার লাভ করেছে।যে কেউ খুব সহজেই পর্ণ গ্রাফী দেখতে পারছে।

অনেক ক্ষেত্রে তো না চাইতেও এগুলো সামনে চলে আসে।

এভাবেই অনলাইনে পর্ণ গ্রাফীর সহজ লভ্যতার কারনে অনেকেই এর ভয়াবহ শিকারে পরিনত হচ্ছে।ধীরে ধীরে এই জঘন্য আসক্তিতে জড়িয়ে যাচ্ছে।

যেখান থেকে নিজেকে মুক্ত করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।আর বাচ্চা বা কোমলমতি শিশুদের ক্ষেত্রে সেটা তো আরোও কঠিন।

ওয়েব সার্চের ব্যবহার সম্পর্কে আরো জানতে পড়ুনঃ-

গুগল সেফ সার্চ কিঃ-

গুগল সেফ সার্চ হলো ব্রাউজারে নগ্নতা এবং অশ্লীলতাকে দূরে রাখার একটা উপায়।

অনলাইনে নগ্নতা বা অশ্লীলতাকে দূরে রাখতে গুগলের সেফ সার্চ খুবই কার্যকরী একটি উপায়।বিশেষ করে শিশুদের পর্ণ গ্রাফীর থাবা থেকে বাঁচাতে এটা খুবই কার্যকরী।

সুতরাং নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে নিরাপদ রাখার জন্য আপনার একটি পদক্ষেপ যথেষ্ট।তো আসুন জেনে নেওয়া যাক আজকের পোষ্টের মূল আলচ্য বিষয় সম্পর্কে।

ওয়েব সার্চ এবং এর ব্যবহারঃ-

এমনিতেও ইদানিং শিক্ষাব্যবস্থায় দূর শিক্ষনের একটা সহজ প্রবনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।অবশ্যই এটি একটি কার্যকরী শিক্ষন পদ্ধতি।বিশেষ করে দূরবর্তী স্থানগুলোর জন্য।

এছাড়াও অনলাইনের বিশাল তথ্য ভান্ডার শেখার বিষয়টাকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। তথ্যের সহজ উৎস হওয়ায় অনলাইনে কোমলমতি বাচ্চাদের উপস্থিতি অনেক গুন বেড়ে গেছে।

ওয়েব সার্চের ব্যাপক ব্যবহার মানুষের জানার বিষয়টা খুবই সহজ করে দিয়েছে।বিশেষ করে গুগল সার্চ এই মুহূর্তে সর্বাধিক ব্যবহ্যত সার্চ ইঞ্জিন।যেটি বেশীরভাগ মানুষ ব্যবহার করে থাকে।

ছোট একটি কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করলে সেই বিষয় সম্পর্কে অসংখ্যা রিসোর্স আপনার সামনে এনে দেয় এই সার্চ ইঞ্জিন গুলো।

সার্চ ইঞ্জিনের এলগারিদমের কল্যানে আপনার পছন্দের টপিকগুলো স্বয়ংক্রিয় ভাবে আপনার সামনে চলে আসে।

কখনো কখনো এই এলগারিদমের কারনে কিছু অপ্রত্যাশিত বিষয় আপনার সামনে দৃশ্যমান হয় যা আপনি দেখতে অস্বস্তি বোধ করেন।অথবা আপনার যা দেখা উচিত নয়।

গুগল সার্চ বলেন বা ইউটিউব,অনাকাংক্ষিত বিড়ম্বনায় পড়েননি এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে।আপনি না চাইলেও আপনার সামনে নগ্ন ও অশ্লীল কনটেন্ট গুলো চলে আসে।

এখানে শিশুরা সব থেকে বেশী ঝুঁকির মধ্যে থেকে যাচ্ছে।যা তাদের ভবিষ্যৎ কে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করবে।নগ্নতা বা অশ্লীলতা তাদের সুস্থ মানসিক বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

যেখানে পর্ণ আসক্তি যে কোন মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে।সেখানে শিশুরা নিজেদের কতটুকু নিরাপদ রাখতে পারবে?কিভাবে তারা এর থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে নিবে?

পর্ণ গ্রাফীর করাল থাবাঃ-

অনলাইনে পর্ণ গ্রাফী ছড়ানোর অনেক গুলো কারন আছে।কারন যাই হোক এর ভুক্তভোগী কিন্তু সকল ইন্টারনেট ব্যবহার কারীগন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্ণ আসক্তি একটা পর্যায়ে বিশাল আকারে মানসিক সমস্যায় রুপান্তরিত হয়ে থাকে।যার ভয়াবহতা খুবই মারাত্মক হতে পারে।

গুগল সেফ সার্চ এর ব্যবহারঃ-

আপনি যেই ব্রাউজারে ইন্টারনেট ব্রাউজ করুন না কেন সেখানে আপনি গুগলের সেফ সার্চ (Safe Search) অপশনটি সক্রিয় করে রাখতে পারেন।

এর ফলে আপনার ব্রাউজার পর্ণ গ্রাফী বা অশ্লীলতা সংক্রান্ত সাইটগুলোকে ব্লক করে দিবে।আপনি নগ্নতা বা অশ্লীলতা মুক্ত ব্রাউজিং করতে পারবেন।

যেহেতু এখন পর্যন্ত গুগল হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন।অধিকাংশ মানুষই এটি ব্যবহার করে থাকে।

গুগল সেফ সার্চ কি

যদিও গুগল সার্চের ব্যবহারকারী এর সার্চ ইতিহাস ও ফলাফল নিজেই নিয়ন্ত্রন করতে পারে তথাপি পর্ণ গ্রাফী বা নগ্নতা মুক্ত নিরাপদ ব্রাউজিং এর জন্য এটুকু যথেষ্ট নয়।

গুগলের সেফ সার্চ আপনাকে এই অধিকারটুকু দেয় যাতে আপনি আপনার ব্রাউজারকে পর্ণ বা নগ্নতা থেকে মুক্ত রাখতে পারেন।

আপনি মোবাইল বা ডেক্সটপে যেখানেই ব্রাউজিং করে থাকেন সেখানে আপনার পছন্দের ব্রাউজারটি চালু করুন।

এবার এড্রেস বার থেকে http://google.com এ ঢুকুন।আপনার জিমেইল একাউন্টে লগিন করা না থাকলে লগিন করে নিন।

নীচের ডান কোনার Settings ট্যাব দেখা যাবে,

গুগল সেফ সার্চ কি

এবার Setting এ ক্লিক করলে আরেকটা মেন্যু লিষ্ট দেখা যাবে ।যেখানে এই লিষ্টের প্রথমেই Search Settings এ ক্লিক করতে হবে।

গুগল সেফ সার্চ কি

এবার আপনি Search Settings নামক উইজার্ড টি দেখতে পাবেন।এই পেজের প্রথমেই SafeSearch Filters নামের একটি অপশন দেখা যাবে।

Turning on SafeSearch helps hide explicit content, like pornography. SafeSearch preferences may be set by your device or network administrator. If you can’t turn it off, check with the administrator of your network or device.Turn on SafeSearch

লেখার নীচে একটি চেকবক্স দেখা যাবে,

google safe search

এখানে চেকবক্সে একটি ক্লিক করে টিক চিহ্ন দিন এবং একে বারে নীচে Save বাটনে ক্লিক করে বের হয়ে আসুন এবং আপনার কাজ শেষ।

এবার আপনার ব্রাউজার থেকে খারাপ কিছু লিখে সার্চ করলেও সেইসব এডাল্ট কনটেন্ট বা অশ্লীল কনটেন্ট গুলো আর দেখা যাবে না।

গুগল সেফ সার্চ অপশন সক্রিয় থাকার ফলে আপনার ব্রাউজার সকল ধরনের পর্ণ বা অশ্লীল সাইট গুলো ব্লক করে রাখবে।

শেষকথাঃ-

বাচ্চা বা শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়ে প্রত্যেক অভিভাবকের সতর্ক হওয়া উচিত।যাতে তারা নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে।সেজন্য শিশুদের ব্যবহার করা ডিভাইস গুলোর ব্রাউজারে গুগল সেফ সার্চ অপশন সক্রিয় করাটা অপরিহার্য।গুগল সেফ সার্চ কি এটা সকল অভিভাবকের জানা উচিত।

2 thoughts on “গুগল সেফ সার্চ কি,পর্ণ গ্রাফী ও অশ্লীলতা মুক্ত ইন্টারনেট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।