ব্যাকলিংক কি এবং কিভাবে তৈরি করতে হয়

ব্যাকলিংক তৈরি হলো অফপেজ এসইও এর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।আজকের পোষ্টে ব্যাকলিংক কি এবং কিভাবে ব্যাকলিংক তৈরি করতে হয় সেই বিষয়ে জানবো।

ব্যাকলিংক এর মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন টার্গেট পেজ এবং তার কিওয়ার্ড সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে।ব্যাকলিংক থেকে অনেক ভিজিটর পাওয়া যায় এবং ভালো র‍্যাংক পেতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।

সুতরাং সার্চ ইঞ্জিনের কাছে ভালো অবস্থান পেতে হলে ব্যাকলিংক কি এবং এর ব্যবহার সঠিকভাবে জানা জরুরী

সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন সম্পর্কে আরোও জানতে পড়ুনঃ-

তো আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক ব্যাকলিংক কি?

ব্যাকলিংক কিঃ-

প্রথমেই জেনে নিই ব্যাকলিংক কি?

নিজের ওয়েবসাইটের সাথে সামজস্যপূর্ণ ওয়েবসাইটে নিজের সাইটের লিংক রেখে আসাকে ব্যাকলিংক বলে।এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটিং কৌশল।

আরোও সহজ করে বললে,অন্য একটা সাইটে আপনার সাইট বা কোন পোষ্টের এক্সটারনাল লিংকিং করাটাই হচ্ছে আপনার সাইটের ব্যাকলিংক।এক অর্থে ব্যাক লিংক মানে হচ্ছে রেফার করা।

একটা সাইটের যত বেশী ব্যাক লিংক থাকবে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে সেই সাইটের বিশ্বস্ততা তত বেশী হবে অর্থ সেই পরিমান সাইট আপনার সাইটকে রেফার করেছে এটাই আপনার ব্যাকলিংকের কার্যকারিতা।

তবে, রিলেভেন্ট ব্যাকলিংক হওয়া বাহ্ননীয় তথাপি কিছু ক্ষেত্রে ইরিলেভেন্ট ব্যাকলিংক করতে হয়।যেমন,সোশাল ব্যাকলিংক,লোকাল সাইটেশন,ওয়েবসাইট লিষ্টিং ইত্যাদি।

ধরুন,আপনার সাইট বিজ্ঞান সম্পর্কীয় কিন্তু আপনি ভুগোল সম্পর্কিত সাইটে ব্যাকলিংক করলেন ,তাতে কিন্তু হিতে বিপরীত হওয়ার চান্স থাকে।

এসইও তে ব্যাকলিংক এর ভুমিকা খুবই গুরুত্বপূরন।এটি সার্চ ইঞ্জিনের কাছে বড় একটা র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর।সেজন্যেই ব্যাকলিংক করার আগে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী ভেবে চিন্তে শুরু করা উচিত।

বিশেষ করে কোয়ালিটি ব্যাকলিংক, কিওয়ার্ড রেশিও,এঙ্কর রেশিও অনুযায়ী ব্যবহার করার ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে।

ব্যাকলিংক কত প্রকারঃ-

সাধারনত কার্যকারিতার দিক থেকে ব্যাকলিংক ২ প্রকার।

১) ডু ফলো

২) নো ফলো

১) ডু ফলোঃ-

এই ধরনের লিংক এক পেজ থেকে অন্য পেজ কে অথরিটি দিয়ে থাকে।এই অথরিটি আবার লিংক জুস পাস করে থাকে।

অর্থাৎ এই ধরনের এক্সটারনাল লিংক করার সময় ক্রোলারকে লিংকটি ক্রল করার অনুমতি দেওয়া।যাতে সে সহজেই লিংকটি ক্রল করতে পারে।

২) নো ফলোঃ-

এই ধরনের লিংক কোন অথরিটি দেয় না এবং কোন লিংক জুস পাস করে না।সরাসরি ক্রোলারকে লিংকটি ক্রল না করার নির্দেশনা দিয়ে রাখা।

যাতে ক্রোলার লিংকটি ক্রল না করে।

এছাড়াও সার্চ ইঞ্জিন সমূহ বিভিন্ন দৃষ্টি ভঙ্গি থেকে রেফারিং ডোমেইনের কোয়ালিটি বিবেচনা করে থাকে।যেমনঃ ডোমেইন অথরিটি (DA),পেজ অথরিটি (PA),লিংক প্রোফাইল ম্যাটিক্স (PF,CF) ইত্যাদি।

যেসব সাইটে ব্যাকলিংক রেখে আসতে আসতে চান সে সাইটগুলি সম্পর্কে আগে জেনে নিতে হবে।অন্তত আপনার সাইটের থেকে যেন সেই সাইট গুলোর ডিএ কম না হয়।

সম্ভব হলে ৩০ এর অধিক ডিএ সম্পন্ন সাইটে আপনার সাইটের ব্যাকলিংক তৈরি করা ভালো।

যেকোন সাইটের ডিএ/পিএ জানার জন্য DA/PA Checker টুলসটি ব্যবহার করতে পারেন।

সুতরাং যেসব সাইটের ডোমেইন অথরিটি এবং পেজ অথরিটি বেশী সেসব সাইটে আপনার সাইটের লিংক রাখতে পারলে অতি অবশ্যই আপনার সাইটের ডিএ/পিএ বেড়ে যাবে এবং সার্চ ইঞ্জিনের কাছে ভালো র‍্যাংক পাওয়া সম্ভব হবে।

  • আরোও জানতে দেখুন moz

ব্যাকলিংক তৈরি করার উপায়ঃ-

আগেই বলেছি অফপেজ এসইও এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে লিংক বিল্ডিং। তাই এবার আমরা ব্যাকলিংক তৈরি করার উপায় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

ব্যাককিংক

১। গাষ্ট পোষ্টিং

২। Q/A ফোরাম পোষ্টিং

৩। ব্লগ কমেন্টিং

৪। ব্রোকেন লিংক বিল্ডিং

৫। সোশাল প্রোফাইল

৬। ইনবাউন্ড/আউটবাউন্ড লিংকিং

৭। ওয়েব ডিরেক্টরী সাবমিশন

৮। বায়িং ব্যাকলিংক

আসুন দেখি এবার বিস্তারিত দেখে নেওয়া যাকঃ-

১। গাষ্ট পোষ্টিংঃ-

জনপ্রিয় ব্লগ সমূহে গাষ্ট পোষ্টিং এর সুযোগ থাকে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আপনি সেই ব্লগের জন্য একটি পোষ্ট করলেন।

সেই পোষ্টের কোন এক ফাঁকে প্রসঙ্গ ক্রমে আপনার একটা ব্লগ পোষ্টের লিংক দিয়ে দিলেন। মানসম্মত তথ্যবহুল লেখা হলে আপনার একটি লিংকসহ পোষ্টটি পাবলিশ হওয়ার সুযোগ থাকে।

যা থেকে আপনি নিজের সাইটের একটি ব্যাকলিংক পেয়ে যেতে পারেন। ভাল মানের ওয়েবসাইট থেকে সহজে ব্যাকলিংক পাওয়ার এটাই সহজ ও অন্যতম উপায়।

২। Q/A ফোরাম পোষ্টিংঃ-

অনলাইনে বিপুল সংখ্যাক ফোরাম থাকে। যেগুলো বিভিন্ন মানুষের রিয়েল লাইভ সমস্যা গুলো নিয়ে আলোচনা হয় এবং সমাধান গুলো বের হয়ে আসে।

অনেক ভালমানের Q/A ফোরাম সাইট আছে যেগুলোর ডিএ/পিএ অনেক ভাল।এগুলো থেকে পাওয়া ব্যাকলিংক আপনার সাইটের র‍্যাংকিং বাড়াতে সাহায্যে করবে।

এধরনের সাইটে আপনাকে শুধু আপনার সাইট রিলেটেড সমস্যা গুলো খুজে বের করতে হবে। তারপর আপনি সেই সমস্যার প্রাসঙ্গিক উত্তর দিলেন যার সাথে সংশ্লিট পোষ্টের লিংকটিও দিয়ে দিলেন।

এভাবে একটি ভাল মানের ব্যাকলিংক তো পাওয়া যাবেই পাশাপাশি কিছু ভিজিটরসও পাওয়া সম্ভব।

৩। ব্লগ কমেন্টিংঃ-

আপনার সাইটের চেয়ে ভালো মানের এবং একই ধরনের ক্যাটাগরির ব্লগ সাইটের বিভিন্ন পোষ্টের কমেন্ট বক্সে সুন্দর একটা মন্তব্য লিখে তারসাথে আপনার ব্লগের একটি প্রাসঙ্গিক পোষ্টের লিংক জুড়ে দিলেন।

আপনার সুন্দর মন্তব্যের কারনে এডমিন আপনার কমেন্টটি এপ্রুভ করবে। যার থেকে আপনি একটা ভাল মানের ব্যাকলিংক পেয়ে গেলেন।

খেয়াল রাখতে হবে,যে ব্লগের পোষ্টে কমেন্ট করবেন তার ডিএ/পিএ যেন আপনার সাইটের চেয়ে বেশী হয় এবং যে পোষ্টে কমেন্ট করবেন সেটি যেন আপনার শেয়ার করা পোষ্টের সাথে সামজস্য পূর্ণ হয়।

৪। ব্রোকেন লিংক বিল্ডিংঃ-

ধরুন,আপনার ব্লগের একটি পোষ্টে অন্য একটা সাইটের লিংক রেফার করেছিলেন কিন্তু কোন কারনে আপনার রেফার করা লিংকটি বর্তমানে অকেজো হয়ে আছে। এটাই আপনার সাইটের জন্য ব্রোকেন লিংক।

সাইটে এরকম ব্রোকেন লিংকের সংখ্যা বেশী হলে তা সাইটের র‍্যাংকিয়ে বাজে প্রভাব ফেলে থাকে। জ্ঞাত সারে কোন সাইট এডমিন চাইবে না যে তার পোষ্টে ব্রোকেন লিংক থাকুক।

সুতরাং যদি কোন ব্যাক্তি আপনার সাইটে থাকা এমন ক্ষতিকর ব্রোকেন লিংক ধরিয়ে দেয় পরিবর্তে তার একটি লিংক সেখানে বসিয়ে দিতে চায় তো আপনার আপত্তি থাকার কথা নয়।

ঠিক একই প্রক্রিয়ায় আপনি আপনার সাইটের সাথে সামজস্য পূর্ণ অন্য সাইটের ব্রোকেন লিংক খুজে বের করলেন এবং তা এডমিন কে জানিয়ে দিয়ে সেই জায়গায় আপনার লিংক দিতে অফার করলেন।

যদি সে রাজি হয়ে যায় তো সহজেই সামান্য উপকারের ছলে একটি ব্যাকলিংক পেয়ে যেতে পারেন।

৫। সোশাল প্রোফাইলঃ-

যেহেতু জনপ্রিয় সোশাল সাইট গুলোর ডিএ/পিএ অনেক ভাল মানের হয়ে থাকে,সেহেতু সেখান থেকে পাওয়া একটা ব্যাকলিংক আপনার সাইটের জন্য সহায়ক ভুমিকা রাখবে।

প্রায় প্রত্যেক সোশাল মিডিয়ায় পেজ তৈরি করলে সেখানে ওয়েবসাইট এর লিংক দেওয়ার একটা বক্স থাকেই।

সেখানে আপনার সাইটের লিংক দিয়ে সহজেই একটি ব্যাকলিংক পেয়ে যেতে পারেন।

৬। ইনবাউন্ড/আউটবাউন্ড লিংকিংঃ-

যখন আপনি আপনার ব্লগের জন্য কোন পোষ্ট লিখবেন তখন সেই পোষ্টে আপনার পূর্বে প্রকাশিত পোষ্ট গুলোর লিংক দিয়ে দিতে পারেন এটাই হলো ইন্টারনাল লিংকিং বা ইনবাউন্ড লিংকিং।

সঠিকভাবে ইনবাউন্ড লিংক করতে পারলে আপনি অনেক সুবিধা পাবেন।বিশেষ করে এতে আপনার ভিজিটরস এনগেজ থাকবে।

এক পোষ্ট পড়তে এসে আরেক পোষ্টে গেলে তা আপনার সাইটের বাউন্স রেটে ভাল প্রভাব রাখবে।

তাছাড়া এভাবে এক পোষ্ট থেকে আরেক পোষ্টে ভিজিটর এনগেজ হলে আপনার সাইটের পেজ ভিউ বাড়বে।এটিও অফপেজ এসইও এর একটা অংশ।

একইভাবে আপনার পোষ্টে যখন অন্য কোন সাইটের লিংক রেফার করবেন তখন সেটা হবে এক্সটারনাল বা আউটবন্ড লিংকিং।

আপনার পোষ্টে এক্সটারনাল লিংক দেখে তা থেকে সার্চ ইঞ্জিনের আপনার সাইটের প্রতি একটা পজিটিভ ধারনা জম্মাবে।

অন্তত সে এটা বুঝে যাবে যে আপনি পোষ্টটি লিখতে অবশ্যই কিছু রিসারচ করেছেন।যার ফলে রেফার লিংক গুলো এসেছে।

৭। ওয়েব ডিরেক্টরী সাবমিশনঃ-

অনেক ভাল মানের ডিএ/পিএ সম্পন্ন ওয়েব ডিরেক্টিরী আছে।যেগুলোতে তালিকাভুক্ত হওয়ার মাধ্যেম আপনি একটা ভালমানের ব্যাকলিংক পেয়ে যেতে পারেন।

৮। বায়িং ব্যাকলিংকঃ-

এটাকে পেইড ব্যাকলিংক বলা হয়ে থাকে। বুঝতেই পারছেন,ব্যাকলিংক টাকা দিয়ে কিনেও পাওয়া যায়।তবে,এটা সার্চ ইঞ্জিনের দৃষ্টিতে ভালো কাজ নয়।

শেষকথাঃ-

যেহেতু অফ পেজ এসইও এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো লিংক বিল্ডিং।এর উপরেই আপনার সাইটের র‍্যাংকিং অনেকাংশে নির্ভর করছে।

তাই ব্যাকলিংক কি এবং কিভাবে তৈরি করতে হয় আগে তা ভালোভাবে জেনে বুঝে কাজে হাত দেওয়া উচিত।

2 thoughts on “ব্যাকলিংক কি এবং কিভাবে তৈরি করতে হয়

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।