করোনা ভাইরাস এবং করনীয়, আতঙ্ক নয় চাই সচেতনতা - বাংলা প্রযুক্তি ব্লগ

করোনা ভাইরাস এবং করনীয়, আতঙ্ক নয় চাই সচেতনতা

করোনা ভাইরাস কি?

কোভিড-১৯ যা করোনা ভাইরাস নামে পরিচিত। এশিয়ার বিভিন্ন অংশ এবং এর বাইরেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস। ইতিমধ্যেই যা মহামারী রুপ নিয়েছে। তাই সকলের জন্য করোনা ভাইরাস এবং করনীয় সম্পর্কে জানা জরুরী।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী (৪ সেপ্টেম্বর ২০২০) সারাবিশ্বের ২১৩ টি দেশে কোভিড-১৯ ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা ৮৭৪২০৪ জন, আক্রান্ত প্রায় ২৬৫২১৮৮১ জন মানুষ।

কোভিড-১৯ এর সর্বশেষ গ্লোবাল আপডেট দেখুন

১৮৭০৭৩২০ জন মানুষ ভাইরাস থেকে মুক্ত হলেও সহসাই এই ভাইরাস নির্মূল হওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই।বরং দিন যত যাচ্ছে,আক্রান্তের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে।

এমতাবস্থায় যেকেউ আতঙ্কিত হয়ে পড়বে, এটাই স্বাভাবিক।করোনা ভাইরাস এর মহামারী রুপের ভয়াবহতা খুবই মারাত্মক এতে কোন সন্দেহ নেই।

তবে,এখান থেকে এক ধরনের নেতিকথা বা গুজব সৃষ্টি হচ্ছে, যার ভয়াবহতা করোনা ভাইরাসের থেকেও কম নয়।

কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে গুুজব ও আতঙ্ক আরেকটি মহামারী হিসাবে আবির্ভূত হচ্ছে। যা সত্যিই অনেক চিন্তার বিষয়।মোদ্দা কথা, গুজবে কান না দিয়ে সাধারন স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাবধানতা অবলম্বন করাটা বেশী জরুরী।

আরোও পড়ুনঃ-

লক্ষন :

১০০ ডিগ্রির উপরে জ্বর, সর্দ্বি, হাঁচি,শ্বাসকষ্ট,গলা ব্যথা, নিউমোনিয়া, কাশির মাধ্যমে এ রোগের সাধারণ লক্ষন গুলো প্রকাশ পায়।

কোন বয়সের মানুষের উপর এর বেশী প্রভাব সেটা এখন পর্যন্ত পরিস্কার না হলেও শিশু এবং বৃদ্ধ বিশেষ করে পুর্ব থেকে রোগ আক্রান্তদের উপর করোনা ভাইরাসের প্রভাব টা সন্দেহাতীত ভাবেই অনেক বেশী।

তবে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা যেকোন সুস্থ মানুষের করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী।

আশার কথা হলো যে, একজন সুস্থ সবল ব্যক্তির উপর করোনার প্রভাব খুব একটা মারাত্মক হবে না যদি আক্রান্ত ব্যক্তি সাবধানতা অবলম্বন করে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে এবং জরুরীভিত্তিতে চিকিৎসার আওতায় আসে।

করোনা ভাইরাস এবং করনীয় :

আক্রান্ত হয়ে বাচার উপায় খোজার চেয়ে ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা পারে আমাদের করোনার ভয়াবহতা থেকে বাঁচাতে।

সুতরাং করোনা প্রতিকারের চেষ্টা যাতে না করতে হয় সেজন্য সাধারন স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই ভাইরাসকে প্রতিরোধ করাই শ্রেয়।

তবে, বিশেষজ্ঞ দের পরামর্শ অনুযায়ী, মানুষের হাতের স্পর্শ পড়ে এমন কিছু ধরা বা ছোয়া থেকে বিরত থাকা, অন্য মানুষের সংস্পর্শে না আসা, নিজেকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, নিজের অপরিস্কার হাত মুখ, চোখে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা,হাঁচি / কাশির সময় টিস্যু বা কনুই দিয়ে নাক ও মুখ ঢেকে রাখা।

অন্য মানুষদের কাছ থেকে নূন্যতম ৩ ফুট দুরত্ব বজায় রাখা। হ্যান্ডশেক বা কোলাকুলি করা থেকে বিরত থাকা।

সম্ভব হলে কিছু সময় পরপর লিকুইড স্যানিটাইজার বা সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে হাত ধোয়া।

সংক্রমণ এবং এর লক্ষন সমুহ বিবেচনা করে সরকারের উদ্দ্যেগে যে সামাজিক বিচ্ছিন্নকরন কর্মসুচি নেওয়া হয়েছে সেটাকে একজন দ্বায়িত্ববান নাগরিক হিসাবে বাস্তবায়ন করা।

যা করোনা  বিস্তার রোধে বিশেষ অবদান রাখতে পারে।

বিশেষ করে যেকোনো অবস্থায় শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে নিজেকে নিরাপদ এবং দেশকে সুরক্ষিত রাখা সকলের দায়িত্ব।

আপাত দৃষ্টি তে এই মুহুর্তে বিশ্ব থেকে করোনা ভাইরাস নির্মুল হওয়ার তেমন কোন সম্ভাবনা নেই।

তাছাড়া কার্যকরী ভ্যাকসিন তৈরিতে এখনো আশানুরূপ কোন ফল পাওয়া যায় নি।

কবে নাগাদ কার্যকর ভ্যাকসিন আবিস্কার হবে,এব্যাপারে এখনো কেউ নিশ্চিত নয়।সুতরাং এই মুহূর্তে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে নিজেই নিজের সুরক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে।

তাই, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজেদের মানিয়ে চলার অভ্যাস করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

আশা করি, প্রত্যেকে নিরাপদ থাকবেন। আবার কথা হবে খুব শীঘ্রই।
তথ্যসূত্র :- ইউনিসেফ

আরোও জানতে পড়ুনঃ

3 thoughts on “করোনা ভাইরাস এবং করনীয়, আতঙ্ক নয় চাই সচেতনতা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।