করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায় আছে আপনার হাতেই - বাংলা প্রযুক্তি ব্লগ

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায় আছে আপনার হাতেই

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায়:

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায় রয়েছে আপনার হাতেই।আপনার নিজের হাত এবং মুুুখ মন্ডলকে নিরাপদ রাখতে পারলে করোনা ভাইরাস এর সংক্রমণ থেকে নিজে, নিজের পরিবার সমাজ এবং দেশকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।

করোনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত কোভিড -১৯ (২০১৯-এনওসিভি) গোটা বিশ্ববাসীর জন্য ক্রমশই মূর্তিমান আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

ইতিমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটাকে মহামারী ঘোষণা করেছে।

কোভিড-১৯ এর সর্বশেষ গ্লোবাল আপডেট পেতে দেখুন।

এখন পর্যন্ত (৩ মে) ২১২ টি দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪ লাখের উপরে, বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২ লাখ ৪৪ হাজারেরও বেশী । এমতাবস্থায় করোনার ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে মানুষ দিশেহারা এবং বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞ দের মতে,  মানবদেহের এই দুটি অঙ্গের ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে এই ভাইরাস থেকে বাচাঁ সম্ভব।

স্বাভাবিক অবস্থায় একজন মানুষ প্রতি ঘন্টায় ২৩ বার তার হাত নিজের মুখে স্পর্শ করায়।

সুতরাং একথা স্পষ্ট যে, মানুষের হাত এবং মুখই হলো করোনা ভাইরাস সংক্রমনের বড় মাধ্যম।

এছাড়া কিছু সাধারন স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ থেকে নিজেকে বাঁচানো সম্ভব।

প্রেক্ষাপট :-

ভাইরাস বিশেষজ্ঞ বা ভাইরোলজিষ্ট গন ৬ ধরনের করোনা ভাইরাসের প্রজাতির কথা জানায়।

সম্প্রতি চীনের উহান প্রদেশ থেকে করোনা ভাইরাসের যে প্রজাতিটি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে সেটি একেবারে নতুন।

যার ফলে করোনা ভাইরাসের মোট প্রজাতির সংখ্যা দাড়ালো ৭ টি।

যার কোন কোন প্রজাতি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক হলেও সব গুলো নয়।

যেমন ২০০২ সালে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক করোনা ভাইরাসের একটি প্রজাতি যার নাম সার্স (সিভিয়ার এ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) ভাইরাস।

যা প্রায় ৭ শতাধিক মানুষের প্রানহানি ঘটিয়েছিল এবং প্রায় ৮ হাজারেরও বেশি মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়েছিল।আশংকার কথা হলো, এখনো পর্যন্ত কোথাও এ রোগের পরীক্ষিত কার্যকরী কোন প্রতিষেধক আবিস্কার হয়নি।

যার অন্যতম কারন হলো, এর জেনেটিক কোড এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা।

ঠিক কোন প্রানীর থেকে ভাইরাস টি মানুষের দেহে এসেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায় নি।

তবে সারাবিশ্বের বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীগন নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

যাতে দ্রুততম সময়ে এর প্রতিষেধক আবিস্কারের মাধ্যমে মানুষের প্রানহানীর সংখ্যা হ্রাস করা সম্ভব হয়।

হয়তোবা আমরা অচিরেই সেরকম কোন আশার বানী শুনতে পাবো।

যেহেতু এটি করোনার একেবারে নতুন একটি প্রজাতি, তাই এর অনেক বিষয় সম্পর্কে এখনো ধোয়াশা রয়ে গেছে।

আবার কোন ক্ষেত্রে এটি ভিন্ন ভিন্ন রুপে আবির্ভূত হচ্ছে। অঞ্চল, আবহাওয়া, লিংগ, বয়সভেদে এ রোগের সংক্রমণের ধরনও আলাদা।

লক্ষনসমূহ :

সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত ৫৬ হাজার মানুষের উপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, এই রোগে ৬% কঠিনভাবে অসুস্থ হয়।

তাদের ফুসফুস বিকল হওয়া, সেপটিক শক, অঙ্গ বৈকল্য এবং মৃত্যুর সম্ভাবনা তৈরি হয়।

১৪% এর মধ্যে তীব্রভাবে উপসর্গ দেখা যায়।

তাদের মূলত শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা তৈরি হয়।

৮০% এর মধ্যে হালকা উপসর্গ দেখা যায় – জ্বর এবং কাশি ছাড়াও কারো কারো নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা যেতে পারে।

বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের কোনো ধরণের অসুস্থতা রয়েছে (অ্যাজমা, ডায়বেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ) তাদের মারাত্মক অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ গনের ধারনা,করোনা ভাইরাস ইনকিউবেশন পিরিয়ড ১৪ দিন এর মতো, কিছু ক্ষেত্রে ২৪ দিনও হতে পারে।

তবে, করোনা ভাইরাস সম্পর্কে যতটুকু জানা গেছে তা থেকে এ কথা পরিস্কার যে, করোনা ভাইরাসটি কিছুতেই নিজে থেকে বিলুপ্ত বা নির্মুল হয়ে যাবে না।

যা বারবার ফিরে আসার আশংকা বিশেষজ্ঞ গনকে আরোও আতঙ্কিত করে তুলেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি হয়তো মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতিমধ্যেই ‘মিউটেট করছে।

অর্থাৎ গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করছে। যার ফলে এটি আরো বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

কমিউনিটি ট্রান্সমিশন :-

এই ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেক জনের দেহে ছড়ায়।

সাধারণ ফ্লু বা ঠান্ডা লাগার মতো করেই এ ভাইরাস ছড়ায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে। অনেক ক্ষেত্রেই করোনার কোন লক্ষন ছাড়াই করোনা পজিটিভ হওয়ার প্রমান মিলেছে। এক নীরব ঘাতকের মতো।

এক্ষেত্রে ব্যক্তি বুঝতেই পারছে না যে, সে করোনা ভাইরাস নিজের শরিরে বহন করে চলেছে। তার আশেপাশের মানুষের একি অবস্থা। তারাও জানতে পারছে না যে, তার পাশে থাকা মানুষ টি করোনা পজিটিভ।

সুতরাং নীরবে এক জনের দেহ থেকে খুব সহজেই আরেক জনের দেহে করোনা ভাইরাস ট্রান্সমিশন হচ্ছে।

বাংলাদেশ তথা তৃতীয় বিশ্বের জনবহুল দেশগুলোর জন্য কমিউনিটি ট্রান্সমিশন রোধ করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।

সৈন্য দল যত বড়ই হোক, সেটা যদি দৃশ্যমান হয় তাহলে হয়তো লড়াইটা করা সম্ভব। কিন্তু করোনা ভাইরাস এমন এক অদৃশ্য শক্তি আকারে আবির্ভূত হয়েছে, যার বিরুদ্ধে সামান্য প্রতিরোধ গড়ে তোলা হিমশিম হয়ে দাড়াচ্ছে।

তবে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সাধারন জ্বর, সর্দিকাশির মাধ্যমে করোনার লক্ষন প্রকাশ পেতে শুরু করে।

সাধারণত রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচ দিন সময় নেয় এরপর শুরু হয় শ্বাস তন্ত্র সংক্রান্ত সমস্যা গুলো।

সবকিছু বিবেচনা করে একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, এই মুহুর্তে বিশ্ব একটি সংকটময় মুহুর্ত পার করছে, কেউ জানে এর শেষ পরিনতি কি।

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায় :-

অবশ্য বিশ্ব প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার অবস্থা এখনো কিছুটা ভালো।

তবে, রাষ্টীয় অবহেলা বা ব্যক্তি পর্যায়ে অসচেতনতা মারাত্মক ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে যে কোন মুহুর্তে।

সুতরাং এর থেকে বাচাঁর জন্য প্রথম পদক্ষেপ টা ব্যক্তিকেই গ্রহন করতে হবে।

অন্তত নিজের হাত এবং মুখ কে সুরক্ষিত রাখার জন্য যা যা প্রয়োজন সেটা ব্যক্তি নিজেকেই করতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা যেকোন ধরনের সংক্রমনকে প্রতিহত করতে পারে। সুতরাং ব্যক্তি পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা করোনা ভাইরাস এর সংক্রমণ কে প্রতিহত করতে পারে।

অন্য মানুষের সংস্পর্শ যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।

শ্বাস যন্ত্রের কাজে যাতে কোন বিঘ্ন না ঘটে সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। পরিমিত ব্যায়ামের মাধ্যমে যথাসম্ভব শ্বাস ক্রিয়াকে সচল রাখার চেষ্টা করে যেতে হবে।

দিনের মধ্যে অন্তত ৩ বার গরম পানির ভাব নেওয়া বা গড়াগড়া করাতে সুফল মিলতে পারে। দিনে দু এক কাপ আদা মসলাযুক্ত লাল চা পান করা ভালো অভ্যাস।

দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে বেশী বেশী ভিটামিন সি ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহন করা যেতে পারে।

সর্বোপরি, দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারলে করোনা ভাইরাস এর সংক্রমণ থেকে বাচা সম্ভব।

মূলত করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ব্যবস্থা কিছুটা এমনই। যেমন, আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির উপর গুরুত্ব আরোপ করা।

যেহেতু এটি সরাসরি আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস যন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলছে সেহেতু আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস ক্রিয়াকে সাবলিল রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো এর চিকিৎসা পদ্ধতির অন্যতম অংশ।