12mishali

একজন শাহেদ ভক্তের জবানীর চুম্বক

বাংলাদেশ
জানেন, আবেগে রাতে ঘুমাতে পারতাম না। কত রাতে স্বপ্ন দেখেছি আমিও শাহেদ ভাইয়ার মতো টেলিভিশনের টকশোতে গলা চড়িয়ে কথা বলছি। দামীদামী গাড়ি হাকাচ্ছি। কি সুখ-প্রশান্তির জীবন! আমি ভাইয়ার পাড়ভক্ত। ভাইয়ের গুণকীর্তন গেয়ে শতশত ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছি। ভাইয়াকে আমার জোস লাগে। কি চমৎকার বাচনভঙ্গি তাঁর। কথা বলার সময় আত্মবিশ্বাসে টগবগ করে।

 

বুঝলেন দাদা, কল্পনা করতে পারবেন না মানুষ আসলে কতটা বেইমান হতে পারে। দুদিন আগেও যারা শাহেদ ভাইয়ের টাকায় খেয়েদেয়ে আমোদফূর্তি করে পেট মোটা করেছে, তারাই বিপদের দিনে সবার আগে সাহেদ ভাইয়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। ভাবখানা এমন তারা এতদিন শাহেদ ভাই সম্পর্কে কিছুই জানতো না। হঠাৎ তাঁর অপকর্ম জেনেই ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠিরের মতো তাঁকে ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যাত করেছে। দুদিন আগেও শাহেদ ভাইয়ের পা ছুঁয়ে কদমবুসি করা ছেলেগুলোর ফেসবুকের ওয়াল ভাইয়ের আটকের ছবিতে সয়লাব হয়ে গেছে। এসব দেখে দেখে ভাবি মানুষের কতটা অধঃপতন হয়েছে। সমাজটা এক্কেরে গেছে ভাই।

 

রাগ করছেন দাদা? মনে অনেক বেদনা। জানেন আসলে মানুষ না প্রচন্ড রকমের হিংসুক। অন্যের ভালো দেখতেই পারেনা। এই পোলাপানগুলোর চোখে দুদিন আগেও শাহেদ ভাইয়া ছিলো সৎ, আদর্শ ও তারুন্যের প্রতীক। তারা ভাইয়ের মতোই হতে চাইতো। অথচ ভাই একটু বিপদে পড়েছে ওমনি পাশার চাল উল্টায় দিছে। দেখছেন কান্ড?

 

আসলে কি জানেন– জ্বলে। খুব জ্বলে। শাহেদ ভাই এই অল্পবয়সে কোটিকোটি টাকা গাড়িবাড়ি, হাসপাতালের মালিক হয়ে গেছেন। নেতা হয়ে টকশোতে কথা বলেছেন। বড় বড় জায়গায় ওনার ওঠাবসা। এটা ওদের সহ্য হয়না। ওরাতো আলাদিনের চেরাগে, জিনের বাদশার বদৌলতে কোটিপতি হওয়ার খোয়াব দেখে। দাদা বিশ্বাস করেন আমি নিজের চোখে দেখছি ওরা দলেদলে দরগায় গিয়ে বাবার কাছে দোয়া চায় যেন ওরা সব শাহেদ ভাইয়ের মতো সফল মানুষ হতে পারে। দেবীর চরনে পূজো দিয়েছে কতজনে! কিন্তু আলসের দল কাজের কাজতো কিছুই করেনা। সারাদিন পাইছে একখান ফ্রি ফেসবুক। মানুষের সমালোচনা করে সাধু সাজাই ওদের কাজ। শাহেদ ভাইয়া ভন্ড হলে ওরা তারচেয়েও বড় ভন্ড। আমি ভাই ওদের মতো সাধু নই। আমি শাহেদ ভাইয়ার মতোই হতে চাই। কসম….

 

বাংলার ঘরে ঘরে এমন লক্ষকোটি শাহেদ জন্ম নিয়েও বিকশিত হতে পারেনি শুধু সময় আর সুযোগের অভাবে। সবাই তো ভাগ্য নিয়ে জন্মায়নি। আর সবাই তো পরিশ্রমী নয়। দেশের অলিতে গলিতে অর্ধ শাহেদ, সিকি শাহেদ, কোয়ার্টার শাহেদরা গিজগিজ করছে। আমি এই জাতির প্রতি চরম হতাশ ও বিব্রত। পরশ্রীকাতর জাতির জন্য শাহেদ ভাই বড়ই বেমানান। এ জাতির ঘরে ঘরে এমন লক্ষকোটি শাহেদ ভাই বসবাস করেন। শুধু ধরা পড়লে বাদবাকি শাহেদদের পাশার দান উল্টে যায়।

 

হাতি গর্তে পড়লে চামচিকাও থাপ্পড় মারে। শাহেদ ভাইয়ের দশা হয়েছে তাই। সবাই শাহেদ ভাইকে হটিয়ে নিজেরা তার জায়গার দখল নিতে চায়। এজন্যই সবাই শাহেদ ভাইয়ার বিরুদ্ধে নির্লজ্জ, নির্মম, ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

 

কি স্ববিরোধীতা বলেন! সেকুলাস! বড়ই সেকুলাস এই দেশ। আমি হতাশ! সত্যিই হতাশ!
লেখক
মফিজুর রহমান পলাশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *