12mishali

কে এই ব্যাচসেরা এএসপি আনিসুল করিমকে?

অজানা রহস্য
তিনি একজন বিসিএস পুলিশ অফিসার ছিলেন। লেখাপড়া করেছিলেন দেশের স্বনামধন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগে। অনার্সে তাঁর মেধাক্রম ছিলো প্রথম শ্রেনীতে দ্বিতীয়। দেশের সেবা করার অদম্য আগ্রহ ছিলো এই তরুনের। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারতেন, অথবা দেশ ছেড়ে নিরাপদ জীবনের আশায় বিদেশেও পাড়ি জমাতে পারতেন কিন্তু দেশের মানুষের পাশে থাকবেন বলে তিনি বিসিএস পরীক্ষা দিলেন। ৩১ তম বিসিএস পরীক্ষায় পাশ করে এএসপির চাকরিও পেয়ে গেলেন। এখানেও যথারীতি মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন এই তরুণ পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি তাঁর ব্যাচে প্রথম স্থান অধিকার করলেন, পুলিশী ভাষায় যাকে বলে কোর্স সিনিয়র। এই পদের আকাশচুম্বী সম্মান। এতক্ষণ যার কথা বলছিলাম তাঁর নাম আনিসুল করিম। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের একজন সিনিয়র এএসপি ছিলেন। তবে, এই সাফল্য ও রোমাঞ্চকর গল্পগুলো এখন অতীত হয়ে গেছে। তিনি আর কোনদিন দেশের সেবা করার জন্য মুখিয়ে থাকবেন না। তাঁর দেশসেবার স্বপ্নগুলো ইতোমধ্যই কবরের গহীন অন্ধকারে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে!

 

জীবন যেমন সত্য, মৃত্যুও তেমনি অনিবার্য। তবু কিছু মৃত্যু আমাদের বিবেককে দংশন করে, ক্ষতবিক্ষত করে আমাদের অবহেলা আর উদাসীনতাকেও। প্রথম আলো পত্রিকার পাতায় চোখ যেতেই হৃদয়টা গুমরে উঠলো। অশ্রুসিক্ত হলো চোখ। মানসিক সমস্যার চিকিৎসা নিতে তিনি গিয়েছিলেন ঢাকার একটি হাসপাতালে। কিন্তু ওই প্রাইভেট হাসপাতালের একদল স্টাফ নামধারী বুনো হায়েনার সংঘবদ্ধ আক্রমনে কবরের বাসিন্দা হলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় মেধাবী পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুল করিম। গাজীপুরের সন্তান আনিসুল করিম সর্বশেষ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে সিনিয়র এএসপি পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি এক সন্তানের জনক। ভাবা যায় মানসিক সমস্যার ধোয়া তুলে পিটিয়ে হত্যা করা হলো এই পুলিশ কর্মকর্তাকে। অথচ তিনি কত লোকেরই জীবন বাঁচিয়েছেন তার অর্ধ যুগের বেশি কর্মজীবনে।

 

 

মেধাবী এই পুলিশ কর্মকর্তার অকালমৃত্যু দেশে একটা সাময়িক ইস্যু তৈরী করবে সত্য তবে, তা আবার একসময় হাওয়ায় মিলিয়েও যাবে। হয়তো কেউ কেউ আটক হবেন, হয়তো বিচারও হবে এই নৃসংশ হত্যাকান্ডের। তবু কিছু প্রশ্ন বিবেককে দংশন করছে অনবরত। হত্যাকারীদের ফাঁসি দিলেই কি সব অপরাধ শেষ হয়ে যায়?

 

 

সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম তাঁর জীবনের বিনিময়ে আমাদের সামনে কিছু প্রশ্ন রেখে গেলেন। একটা বিসিএস পরীক্ষার মতো এতো প্রতিযোগিতার মধ্যে যিনি প্রথম হলেন, তিনি তো আর লবিং তদবির করে সেটা হননি। নিশ্চয়ই মেধাবী ছিলেন বলেই তিনি তাঁর ব্যাচে প্রথম হওয়ায় বিরল গৌরব অর্জন করেছিলেন। কিন্তু সেই মেধাবীদের সেরা মেধাবীকে যখন পাগলের অভিযোগে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, যখন পুলিশ অফিসার হওয়া সত্ত্বেও একদল বুনো পশুর হাতে নিরিহভাবে মৃত্যুবরন করতে হয় সেটা অসংখ্য প্রশ্ন তৈরী করে বৈকি।

 

মফিজুর রহমান পলাশ
সিনিয়র এএসপি, আরআরএফ, রংপুর
৩৪ তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *